সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এমডিকে কারণ দর্শানের নোটিশ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে সুপার নিউমারারি পদে পদোন্নতি প্রচলিত বিধিবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ; অর্থমন্ত্রণালয়

অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলেছে, বিভাগটির বিধিবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে সুপার নিউমারারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি প্রদানের কোন সুযোগ নেই। কিন্তু প্রচলিত এ বিধিবিধানের ব্যতয় ঘটিয়ে পদ না থাকা সত্ত্বেও সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে সুপার নিউমারারি পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এটি প্রচলিত বিধিবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কাছে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখা-১’ থেকে এ চিঠি ইস্যূ করা হয়। কারণ দর্শানের এ নোটিশ চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকেরই এমডির কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৪ জানুয়ারি বণিক বার্তা‘শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার শঙ্কা; পদ না থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে ৭ হাজার ২১৫ জনের পদোন্নতি’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান চার ব্যাংকে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ২১৫ জনই পদোন্নতি পেয়েছেন সুপার নিউমারারি (পদ ছাড়াই পদায়ন) ভিত্তিতে। নজিরবিহীন এ পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোর অর্গানোগ্রাম বা জনবল কাঠামো ভঙ্গ করে। পদ না থাকলেও এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়েছে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ইতিহাসে এর আগে কখনই এভাবে গণপদোন্নতির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকগুলোয় এখন শৃঙ্খলা আরো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

সুপার নিউমারারি ভিত্তিতে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম), সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম), সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও), প্রিন্সিপাল অফিসার (পিও) ও সিনিয়র অফিসার (এসও) পদে। এর মধ্যে কেবল ১ হাজার ৬৭ জনকে এসপিও থেকে এজিএম বানানো হয়েছে। এজিএম হলো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নির্বাহী পদের প্রথম ধাপ। বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি এজিএম হওয়া প্রত্যেক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে সুদমুক্ত ৩০ লাখ টাকা ঋণ পান। ক্রয়কৃত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে পান ৪২ হাজার টাকা। এছাড়া এজিএমদের জন্য ব্যক্তিগত কক্ষও (রুম) বরাদ্দ থাকে। পদের অতিরিক্ত পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কক্ষ ও চেয়ার-টেবিল দিতেই ব্যাংকগুলো এখন হিমশিম খাচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় গণপদোন্নতির এ ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন এগুলো ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি পার করছে। ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের প্রায় অর্ধেক তথা ৫০ শতাংশই এখন খেলাপি। মূলধন ও সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতিতে হাবুডুবু খাওয়া ব্যাংকগুলোর অস্তিত্বও টিকে আছে কেবল সরকারি ব্যাংক পরিচয়ে। এগুলোর খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকায়। আর রেকর্ডসংখ্যক পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পেছনে এ ব্যাংকগুলোর ব্যয় বাড়বে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।’

বণিক বার্তায় প্রকাশিত এ সংবাদের কপি সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। এদিকে নিয়মিত পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সুপার নিউমারারির ভিত্তিতে পদোন্নতি পাওয়ার পরও কর্মকর্তাদের অসন্তোষ কমেনি। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের একটি অংশ উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়ে পদোন্নতির অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরছেন।

আরও